Language Englishहिन्दीবাংলাاردو
SEO বাস্তবে · বাংলাদেশ

ক্লায়েন্টের সাইট নিজেই অডিট করবেন যেভাবে: বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারের সাত ধাপ

Fiverr আর Upwork-এর কাজের জন্য SEO অডিটের ধাপে ধাপে পদ্ধতি: ক্রল, ইনডেক্সিং, দেশি মোবাইল নেটওয়ার্কে Core Web Vitals, বাংলা hreflang আর টুলের খরচ।

সমতল ইলাস্ট্রেশনে একটা বড় ক্লিপবোর্ড, তাতে টিক দেওয়া চেকবক্সের তালিকা।
এই লেখায়
  1. ক্লায়েন্ট আসলে কিসের টাকা দিচ্ছে
  2. ধাপ ১: পুরো সাইট ক্রল করুন
  3. ধাপ ২: Google আসলে কতটুকু ইনডেক্স করেছে
  4. ধাপ ৩: দেশি মোবাইল নেটওয়ার্কে Core Web Vitals মাপুন
  5. ধাপ ৪: পেজে পেজে on-page বেসিক
  6. ধাপ ৫: ইন্টারনাল লিংক
  7. ধাপ ৬: বাংলা আর ইংরেজি পেজের hreflang
  8. ধাপ ৭: হোস্টিং আর CDN-এর বাস্তবতা
  9. কোন টুলগুলো আসলে লাগবে, আর খরচ কত
  10. রিপোর্ট এমনভাবে দিন যাতে পরের কাজটাও পান
  11. সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Fiverr আর Upwork-এ SEO বেচেন, কিংবা মিরপুরের কোনো দোকানমালিককে, প্রথম চাওয়াটা প্রায় সবসময় একটাই: একটা অডিট। বেচার দিক থেকে এটাই সবচেয়ে সস্তা জিনিস, আর খারাপভাবে ডেলিভারি দেওয়ার দিক থেকে সবচেয়ে সহজ। কোনো স্ক্যানার থেকে এক্সপোর্ট করা চল্লিশ পাতার PDF ক্লায়েন্টকে তার ব্যবসা নিয়ে কিছুই বলে না, আর দ্বিতীয় কাজটা তো এনে দেয়ই না।

নিচের পদ্ধতিটা আমরা নিজেরা একজন বাংলাদেশি ক্লায়েন্টের জন্য যেভাবে কাজ করতাম, সেটাই: সাতটা চেক, এই ক্রমে, প্রতিটার সঙ্গে একটা টুল, একটা পাস/ফেল লাইন আর একটা বাক্য যেটা সরাসরি রিপোর্টে বসানো যায়। হাজার পাতার কম সাইটে পুরোটায় একটা কর্মদিবস লাগে। বেশিরভাগ কাজ চলে যায় এমন টুলে যেগুলো আপনার হাতে এমনিতেই আছে; যেখানে পেইড টুল সত্যিই কাজে লাগে, সেখানে আমরা বলে দিচ্ছি সেটা কোন প্ল্যানে আছে আর কখন সেটা কেনার কোনো মানে নেই।

ক্লায়েন্ট আসলে কিসের টাকা দিচ্ছে

আগ্রাবাদে ফার্নিচারের শোরুম চালানো লোকটার কাছে এই তথ্যের কোনো দাম নেই যে তার সাইটের 312টা পেজে meta description নেই। সে জানতে চায়, পাশের গলির প্রতিযোগী কেন “সোফা সেট দাম চট্টগ্রাম” লিখলে তার উপরে আসে, আর সেটা ঠিক করতে কত খরচ পড়বে।

তাই একটা অডিটের তিনটা অংশ, আর ক্রল তার মধ্যে কেবল প্রথমটা। এক, findings: টেকনিক্যালি কী ভাঙা, প্রমাণসহ। দুই, priorities: এর মধ্যে কোন পাঁচটা জিনিস আসলে গুরুত্বপূর্ণ, কোন ক্রমে, আর বাকি চল্লিশটা কেন অপেক্ষা করতে পারে। তিন, দাম লেখা একটা প্ল্যান: আগামী মাসে আপনি কী করবেন আর তার জন্য কত নেবেন।

নিচের সবকিছু প্রথম অংশে যায়। টাকা আছে দ্বিতীয় আর তৃতীয় অংশে, আর সেখানে আমরা লেখার শেষে ফিরব।

ধাপ ১: পুরো সাইট ক্রল করুন

Screaming Frog SEO Spider আইকন

ক্রলার ঠিক সেই কাজটা করে যেটা Googlebot করে: প্রতিটা পেজে ঢোকে আর যা পেল তার তালিকা বানায়, মানে status code, redirect, title, heading, canonical, ছবির সাইজ আর পেজের ডেপথ। এটা সবার আগে করবেন, কারণ প্রতিটা URL স্প্রেডশিটে থাকলে পরের প্রতিটা ধাপ সহজ হয়ে যায়।

Screaming Frog SEO Spider ডেস্কটপ ক্রলারের স্ট্যান্ডার্ড। এর প্রাইসিং পেজে (screamingfrog.co.uk/seo-spider/pricing/, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেখা) দুইটা ভার্সন আছে:

লাইসেন্স ছাড়ালাইসেন্স নিয়ে
ক্রলের সীমা500 URLকোনো সীমা নেই (ভেন্ডরের নিজের নোট: আপনার মেশিনের মেমোরি যতটুকু দেয়)
ক্রল সেভ করে আবার খোলানাহ্যাঁ
JavaScript রেন্ডারিংনাহ্যাঁ
শিডিউলিংনাহ্যাঁ
Search Console, Analytics আর PageSpeed Insights ইন্টিগ্রেশননাহ্যাঁ
কাস্টম এক্সট্র্যাকশন আর কাস্টম সার্চনাহ্যাঁ
ক্রল তুলনা (আগে আর পরে)নাহ্যাঁ
দামকিছু নাভেন্ডরের পেজে লাইসেন্সপ্রতি বছরে £199, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেখা (ইউরোতে খুললে একই পেজ €245 দেখাচ্ছিল)

বাংলাদেশের ছোট ব্যবসার সাইটে 500 URL প্রায়ই যথেষ্ট। শোরুম, ডেন্টাল চেম্বার, কোচিং সেন্টার, ট্রাভেল এজেন্সি বা স্কুলের সাইট এত পেজ পর্যন্ত পৌঁছায়ই না। ঝামেলা শুরু হয় যেদিন আপনি 3,000 প্রোডাক্ট পেজওয়ালা কোনো Daraz সেলার, কোনো প্রপার্টি পোর্টাল বা নিউজ সাইটের কাজ নেন। ওখানে ক্রল 500-এ গিয়ে চুপচাপ থেমে যায়, মানে আপনার রিপোর্ট ভুল আর আপনি টেরই পান না।

সীমায় পৌঁছানোর আগে যে দুইটা জিনিসের অভাব বোধ করবেন সেগুলো হলো ক্রল সেভ করা (গত মাসের ক্রল আবার খুলে মিলিয়ে দেখতে পারবেন না) আর JavaScript রেন্ডারিং। দেশের বেশিরভাগ ব্যবসার সাইট WordPress-এ, ওগুলো রেন্ডারিং ছাড়াই ঠিকঠাক ক্রল হয়। কিন্তু React বা Vue ফ্রন্টএন্ড, কিংবা অ্যাপে ঠাসা Shopify থিম রেন্ডারিং চালু না করা পর্যন্ত আপনাকে খালি পেজ দেখাবে।

আমাদের এখানে Screaming Frog একা নিলে ৳1,230/মাস, আর এটা কেবল Ultimate প্ল্যানে আছে, Advanced-এ নেই। এটা ব্রাউজারের লগইন না, আপনার নিজের মেশিনে চলা প্রোগ্রাম, তাই কেনার আগে টুল পেজে পড়ে নিন অ্যাক্সেস কীভাবে দেওয়া হয়। আর মাসে যদি একটা ছোট সাইটের অডিট করেন, লাইসেন্স ছাড়া ভার্সনটাই আপনার জন্য যথেষ্ট; তখন আমাদেরও টাকা দেওয়ার দরকার নেই, ভেন্ডরকেও না।

ক্রল থেকে যা বের করবেন, এই ক্রমে:

  • প্রতিটা non-200 status code। ইন্টারনাল লিংক থেকে আসা 404, একের বেশি হপের 301 চেইন, আর 5xx (সস্তা শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে খুব সাধারণ ঘটনা)।
  • ডুপ্লিকেট title আর 30 ক্যারেক্টারের কম title। যে সাইট 2019 সালে পরিচিত কেউ বানিয়ে দিয়েছিল, তার title হয় “Home” আর “Products”।
  • হোম পেজ থেকে চার ক্লিকের বেশি দূরের পেজ। ক্রলার ডেপথ দেখায়, আর এত গভীরের পেজ Google-এর কাছে কার্যত অদৃশ্য।
  • অদ্ভুত জায়গায় দেখানো canonical, বিশেষ করে http বনাম https আর www বনাম non-www-এর গোলমাল। দেশি হোস্টগুলো প্রায়ই দুইটা ভার্সনই লাইভ রেখে দেয়।
  • 300 KB-র চেয়ে বড় ছবি। স্পিডের ধাপে এগুলোয় ফিরব।

ধাপ ২: Google আসলে কতটুকু ইনডেক্স করেছে

ক্রল বলে সাইটে কী কী আছে। Search Console বলে Google কোনগুলো রাখার যোগ্য মনে করেছে, আর এই দুইয়ের ফারাকটাই সাধারণত অডিটের সবচেয়ে দামি আবিষ্কার।

ক্লায়েন্টের কাছে তার Search Console প্রপার্টির owner অ্যাক্সেস চান। না থাকলে প্রথম ঘণ্টাতেই বানিয়ে ফেলুন; DNS রেকর্ড বা HTML ট্যাগ দিয়ে ভেরিফিকেশনে কয়েক মিনিট লাগে, আর অডিট এক দফার কাজ হলেও ডেটা জমতে শুরু করাটা কাজে দেবে।

এরপর Pages রিপোর্টে:

  • ইনডেক্স হওয়া পেজের সংখ্যা বনাম ক্রলে পাওয়া সংখ্যা। ক্রলে 800 পেজ পেলেন আর Google রেখেছে 140টা, মানে বাকিগুলো কিছু একটা আটকাচ্ছে বা নিরুৎসাহিত করছে।
  • “Crawled, currently not indexed”। Google পেজটা দেখেছে এবং রাখার মতো মনে করেনি। দেশি ই-কমার্স সাইটে এটা প্রায় সবসময়ই সরবরাহকারীর এক লাইনের ডেসক্রিপশন বসানো পাতলা প্রোডাক্ট পেজ।
  • “Discovered, currently not indexed”। Google URL-টা চেনে, ঢোকার আগ্রহ পায়নি। বড় সাইটে সাধারণত ক্রল বাজেট বা হোস্টিংয়ের গতির সংকেত।
  • “Duplicate without user-selected canonical”। ফিল্টার আর সর্ট প্যারামিটার, ?add-to-cart= URL, আর ধাপ ১-এ পাওয়া http/https জোড়া।

ক্লায়েন্টের সবচেয়ে দরকারি পাঁচটা পেজে (হোম, প্রধান ক্যাটাগরি, প্রধান প্রোডাক্ট, কন্টাক্ট, আর যে পেজটা তার ধারণায় র‍্যাংক করার কথা) URL Inspection চালান। কোনো money পেজে “URL is not on Google” দেখালে সেটা রিপোর্টের এক নম্বর পাতায় যায়।

ক্লায়েন্ট কোন sitemap জমা দিয়েছে সেটাও দেখুন। অবাক করার মতো অনেক সাইট 2022 সালে বানানো একটা sitemap জমা দিয়ে বসে আছে, যেখানে মুছে ফেলা পেজের তালিকা আছে আর নতুন একটা পেজও নেই।

Search Console-এ ডেটা জমার অপেক্ষা না করে ইনডেক্সিং নিয়ে দ্বিতীয় মত চাইলে Semrush-এর Site Audit নিজের সার্ভার থেকে সাইট ক্রল করে সার্চে যা পায় তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। আমাদের এখানে এটা ৳620/মাস, আর Advanced-সহ প্রতিটা প্ল্যানেই আছে।

ধাপ ৩: দেশি মোবাইল নেটওয়ার্কে Core Web Vitals মাপুন

গুলশানের অফিসে ব্রডব্যান্ডে বসে করা অডিট আর লন্ডনে বসে করা অডিটের পার্থক্য এই ধাপেই ধরা পড়ে। ক্লায়েন্টকে এমন কিছু বলার সুযোগও এখানেই, যেটা কোনো স্ক্যানার বলতে পারে না।

Google-এর সীমা (web.dev-এ প্রকাশিত) হলো: Largest Contentful Paint 2.5 সেকেন্ডের নিচে, Interaction to Next Paint 200 মিলিসেকেন্ডের নিচে, আর Cumulative Layout Shift 0.1-এর নিচে, বাস্তব ভিজিটের 75তম পার্সেন্টাইলে মাপা। “বাস্তব ভিজিট” কথাটাই আসল। আপনার ক্লায়েন্টের ভিজিটররা Grameenphone, Robi, Banglalink আর Teletalk-এ, উত্তরা বা মিরপুরে সন্ধ্যা সাতটায় এমন 4G-তে যেটা 3G-র মতো আচরণ করে, আর 3 বা 4 GB RAM-এর ফোনে।

দুইটা উৎস, আর দুইটাই লাগবে:

  1. ফিল্ড ডেটা। PageSpeed Insights সেই URL আর পুরো অরিজিনের জন্য Chrome User Experience Report দেখায়, যদি যথেষ্ট ট্রাফিক থাকে। Google আসলে এই সংখ্যাটাই ব্যবহার করে। দেশের ছোট ব্যবসার সাইটে প্রায়ই কোনো ফিল্ড ডেটাই থাকে না, আর সেটা নিজেই একটা finding: মাপার মতো যথেষ্ট Chrome ভিজিটরই নেই।
  2. ল্যাব ডেটা। Lighthouse, PageSpeed Insights থেকে অথবা Chrome DevTools-এ থ্রটলিং “Slow 4G”-তে রেখে। নিজের অফিসের লাইনে থ্রটলিং ছাড়া চালিয়ে সবুজ স্কোর রিপোর্ট করবেন না। ওই সংখ্যা আপনাকে বর্ণনা করে, কাস্টমারকে না।

দেশি সাইটে যে কারণগুলো আমরা সবচেয়ে বেশি দেখি, সেই ক্রমেই:

  • হোম পেজের স্লাইডারে ফটোগ্রাফারের দেওয়া চারটা 2 MB JPEG, যেমন এসেছিল তেমনই বসানো।
  • এমন WordPress থিম যেটা এক লাইন লেখা দেখানোর আগে Elementor, তিনটা স্লাইডার প্লাগিন আর Google Fonts থেকে দুইটা ফন্ট লোড করে।
  • Messenger চ্যাট প্লাগিন, Facebook Pixel, Google Tag Manager আর একটা Tawk.to বাবল, সবগুলোই head-এ।
  • শেয়ার্ড হোস্টিং যার time to first byte এক সেকেন্ডের বেশি, যেটা ফ্রন্টএন্ডের কোনো ঠিকঠাক দিয়েই বাঁচানো যায় না।

হোম পেজ আর প্রধান ল্যান্ডিং পেজের LCP, Slow 4G-তে, তারিখসহ রিপোর্টে লিখে রাখুন। ঠিক করার পরে আবার মাপলে আগে-পরের একটা তুলনা পাবেন যেটা ক্লায়েন্ট নিজের ফোনেই মিলিয়ে দেখতে পারবে।

ধাপ ৪: পেজে পেজে on-page বেসিক

ক্রলের এক্সপোর্ট হাতে আছে, তাই এই ধাপটা মূলত স্প্রেডশিট সর্ট করা। যে প্রতিটা পেজের র‍্যাংক করার কথা, তার জন্য দেখুন:

  • Title tag: আলাদা, মোটামুটি 60 ক্যারেক্টারের মধ্যে, কোয়েরি আর ব্যবসাটা লোকাল হলে এলাকার নামসহ। “ডেন্টাল চেম্বার ধানমন্ডি | ডা. রেজা” যেকোনো দিন “Home”-কে হারায়।
  • Meta description: আছে কি না, আর থাকলে পুরো বাক্য হিসেবে লেখা কি না। Google বেশিরভাগই নিজে বদলে দেয়, তবু না থাকাটা অযত্নের সাইটের সংকেত।
  • একটাই H1, যেটা title-এর ইনটেন্টের সঙ্গে মেলে। অনেক থিম প্রতিটা পেজে লোগোটাকেই H1-এ মুড়ে রাখে।
  • কোয়েরি কোন ভাষায় লেখা হয়। বাংলাদেশে সার্চের একটা বড় অংশ Google-এ বাংলিশে টাইপ করা: “dhaka te flat vara”, “biye video package dhaka rate”, “laptop showroom chittagong”। পাশাপাশি ইউনিকোড বাংলায় লেখা কোয়েরিও আছে, আর দুইটা এক জিনিস না। Search Console-এর Performance রিপোর্টে যে পেজগুলো এখনই ইমপ্রেশন পাচ্ছে সেগুলো ফিল্টার করে দেখুন লোকজন আসলে কোন বানানে খোঁজে। ওই বানানের জন্যই লিখুন, ঢাকার কোনো এজেন্সির পিচ ডেকে যে ইংরেজিটা থাকে তার জন্য না।
  • পাতলা পেজ। 150 শব্দের কম যেকোনো পেজ যেটার র‍্যাংক করার কথা। প্রস্তুতকারকের স্পেক শিট বসানো প্রোডাক্ট পেজ এর ক্লাসিক উদাহরণ।

নন-টেকনিক্যাল ক্লায়েন্টকে দেখানোর মতো দ্রুত একটা স্কোর দরকার হলে Woorank পুরো ডোমেইন স্ক্যান করে প্রতিটা আইটেমের সহজ ব্যাখ্যাসহ একটা গ্রেড দেওয়া রিপোর্ট দেয়। এটা ক্রলের বিকল্প না, আর Lighthouse যা বলে তার কিছু কথা আবার বলে, কিন্তু এর এক্সপোর্টটা দোকানমালিক আপনাকে ছাড়াই পড়ে বুঝতে পারেন। আমাদের এখানে এটা ৳620/মাস আর Advanced প্ল্যানে আছে।

ধাপ ৫: ইন্টারনাল লিংক

ছোট সাইটে র‍্যাংকিং নাড়ানোর সবচেয়ে সস্তা হাতিয়ার ইন্টারনাল লিংক, আর প্রায় সবসময়ই এটা অবহেলিত থাকে, কারণ সাইটটা একগুচ্ছ পেজ হিসেবে বানানো হয়েছিল এবং তারপর আর কেউ হাত দেয়নি।

ক্রলের এক্সপোর্ট থেকে:

  • inlinks ধরে সর্ট করুন। যে money পেজে এক-দুইটা ইন্টারনাল লিংক (সাধারণত শুধু মেনুর লিংকটা), সেটা কম লিংক পাচ্ছে। ব্লগ পোস্ট থাকলে সেগুলো যে সার্ভিস বা প্রোডাক্ট নিয়ে লেখা, সেই পেজে খুব কমই লিংক করে।
  • অরফ্যান পেজ খুঁজুন: sitemap-এ বা Search Console-এ আছে কিন্তু হোম পেজ থেকে ক্রলার কখনো পৌঁছায়নি। পুরনো Facebook বা Google Ads ক্যাম্পেইনের ল্যান্ডিং পেজ এর সবচেয়ে সাধারণ উদাহরণ।
  • অ্যাংকর টেক্সট দেখুন। সব জায়গায় “click here” আর “read more” Google-কে কিছুই বলে না। “কিচেন ক্যাবিনেটের দাম” নিয়ে লেখা পোস্ট থেকে কিচেন ক্যাটাগরিতে যাওয়া লিংকে সেই কথাটাই লেখা থাকা উচিত।
  • সাইটের ভেতরের রিডাইরেক্ট চেইন বের করুন। যে ইন্টারনাল লিংক একটা (বা দুইটা) 301 পেরিয়ে যায় সেটা নিছক অপচয়; লিংকটা সরাসরি শেষ URL-এ বদলে দিন।

পুরো অডিটের সবচেয়ে সহজ কুইক উইনগুলো এই ধাপ থেকেই আসে। এক বিকেলে ঠিক জায়গায় দশটা ইন্টারনাল লিংক বসালে কম প্রতিযোগিতার লোকাল কোয়েরিতে একটা পেজ 15 নম্বর থেকে 8 নম্বরে উঠে আসতে পারে, আর ক্লায়েন্টের খরচ শুধু আপনার সময়টুকু।

ধাপ ৬: বাংলা আর ইংরেজি পেজের hreflang

দুই ভাষার সাইট বাংলাদেশে খুব সাধারণ, আর প্রায় সবসময়ই ভুলভাবে বসানো। যা দেখি: ট্রান্সলেশন প্লাগিন দিয়ে জোড়া লাগানো একটা বাংলা ভার্সন, /bn/ ফোল্ডারে ইংরেজি সাইটের কপি যেখানে শুধু মেনুটা অনুবাদ করা, অথবা একেবারে আলাদা দুইটা ডোমেইন যাদের মধ্যে কোনো সংযোগ নেই।

যা যা দেখবেন:

  • বাংলা ভার্সনটা কি আলাদা URL হিসেবে আছে? যে JavaScript টগল URL না বদলে জায়গাতেই লেখা পাল্টে দেয়, সেটা Google-কে একটা পেজ একটা ভাষায় দেয়, আর বাংলা কনটেন্ট অদৃশ্য থাকে।
  • html এলিমেন্টে lang অ্যাট্রিবিউট। বাংলা পেজে lang="bn" থাকা দরকার। বাংলা বাঁ থেকে ডানে লেখা, তাই dir নিয়ে ঝামেলা নেই; আসল ভুলটা হলো থিমে হার্ডকোড করা lang="en", যেটা আমাদের ক্রল করা বাংলা সাইটের একটা বড় অংশে পাওয়া যায়।
  • লেখাটা আসলেই ইউনিকোড বাংলা তো? পুরনো অভ্যাসে অনেক সাইটে বিজয়ের ASCII এনকোডিং থেকে কপি করা লেখা বসানো থাকে, যেটা চোখে বাংলা দেখায় কিন্তু Google-এর কাছে অর্থহীন অক্ষরের সারি। ব্যানার বা পোস্টারের ছবিতে বসানো বাংলা লেখারও একই দশা। এটা ধরা পড়ে সহজে: পেজ থেকে একটা বাক্য কপি করে Google-এ পেস্ট করুন, আর দেখুন সেটা বাংলা থাকে নাকি আবোল-তাবোল হয়ে যায়। এনকোডিং ঠিক না হওয়া পর্যন্ত পেজটা কোনো বাংলা কোয়েরিতেই ম্যাচ করবে না, hreflang যতই নিখুঁত হোক।
  • hreflang জোড়া। প্রতিটা ইংরেজি পেজ তার বাংলা যমজকে দেখাবে আর বাংলাটা ইংরেজিটাকে, bn-BD আর en-BD দিয়ে (অথবা শুধু bn আর en), সঙ্গে একটা x-default। এক দিকের রেফারেন্স থাকলে Google সেটাকে কিছুই না থাকার সমান ধরে। Screaming Frog-এর hreflang অডিট লাইসেন্স ছাড়া ভার্সনেই আছে, আর একটা রিপোর্টেই অনুপস্থিত রিটার্ন লিংকগুলো দেখিয়ে দেয়।
  • এক পেজে দুই ভাষা রাখবেন না। উপরে ইংরেজি নিচে বাংলা একটা চেনা শর্টকাট, আর এতে দুইটাই দুর্বল হয়।
  • ফন্ট। বাংলার যুক্তাক্ষরের কারণে গ্লিফ অনেক বেশি, তাই SolaimanLipi, Kalpurush বা Hind Siliguri-জাতীয় ওয়েব ফন্টের ফাইল ইংরেজি ফন্টের তুলনায় ভারী। এটা সরাসরি ধাপ ৩-এর সঙ্গে জড়িয়ে যায়: Slow 4G-তে একটা ভারী ফন্ট প্রতিটা বাংলা পেজের LCP সীমার ওপারে নিয়ে যায়। সাবসেট করা আর font-display: swap সমাধানের অংশ।

ক্লায়েন্টের যদি শুধু ইংরেজি সাইট থাকে আর কাস্টমার বাংলাভাষী হয়, তাহলে রিপোর্টে “hreflang বসান” লিখে লাভ নেই। যে সিদ্ধান্তটা তার নেওয়া বাকি সেটা হলো বাংলা ভার্সন বানানো আদৌ লাভজনক কি না, আর সেটা আলাদা একটা প্রস্তাব যার দাম আপনি আলাদা করে বলবেন।

ধাপ ৭: হোস্টিং আর CDN-এর বাস্তবতা

অডিটে বসে হোস্টিং ঠিক করা যায় না, কিন্তু রোগটা ধরতে হয়, কারণ এটাই বাকি সবকিছুর সিলিং ঠিক করে দেয়।

  • সার্ভার কোথায়? traceroute চালান বা IP-র লোকেশন দেখুন। দেশের অনেক সাইট আমেরিকা বা জার্মানির শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে বসে আছে, কারণ রিসেলার সেটাই বেচেছিল। প্রতিটা রিকোয়েস্ট সাবমেরিন কেবল পেরোয়, আর ব্যস্ত সন্ধ্যায় প্রথম বাইট আসার আগেই কয়েকশ মিলিসেকেন্ড যোগ হয়। দেশি হোস্টিং হলে পরের প্রশ্ন, সেটা BDIX-এ যুক্ত কি না, কারণ দেশের ভেতরের ভিজিটরের ট্রাফিক তখন দেশের ভেতরেই থাকে।
  • Time to first byte। ক্রল থেকে মাপুন (Screaming Frog প্রতি URL-এর রেসপন্স টাইম রাখে) আর PageSpeed Insights থেকেও। হোম পেজে 800 ms-এর বেশি মানে সমস্যা হোস্টিংয়ে, থিমে না।
  • CDN আছে কি? রেসপন্স হেডারে cf-ray, x-cache বা এরকম কিছু আছে কি না দেখুন। বেশিরভাগ লোকাল সাইটের জন্য Cloudflare-এর বিনা খরচের টিয়ারটাই বাস্তবসম্মত উত্তর: এটা স্ট্যাটিক ফাইল ভিজিটরের কাছাকাছি রাখে আর ধীর অরিজিনকে খানিকটা আড়াল করে। বাংলাদেশে এখন তাদের কোন কোন পপ চালু আছে সেটা ধরে না নিয়ে Cloudflare-এর নেটওয়ার্ক ম্যাপ দেখে নিন।
  • HTTPS। লোকাল ব্যবসার সাইটে এখনো সর্বজনীন না। যে পেজে ফোন নম্বর চাওয়া হয়, সেখানে Chrome-এর Not secure লেখাটা র‍্যাংকিংয়ের যতটা, কনভার্শনের সমস্যা তার চেয়ে বেশি।
  • আপটাইম। ক্লায়েন্টকে জিজ্ঞেস করুন সাইটটা “মাঝে মাঝে খোলে না” কি না। উত্তর হ্যাঁ হলে রিপোর্ট লেখার আগে এক সপ্তাহ একটা মনিটরিং চেক বসিয়ে রাখুন। যে সাইট দিনে দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে, তার meta description-এর চেয়ে বড় সমস্যা আছে।

হোস্টিংয়ের findings আলাদা একটা সেকশনে লিখুন, সুপারিশ আর হোস্টের নিজের পেজ থেকে নেওয়া মোটামুটি মাসিক খরচসহ, টাকায়। “আপনার হোস্টিং আপনার কাস্টমার খাচ্ছে” কথাটা ক্লায়েন্ট যেকোনো Lighthouse মেট্রিকের চেয়ে ভালো বোঝেন।

কোন টুলগুলো আসলে লাগবে, আর খরচ কত

ছোট সাইটের জন্য এই অডিটের বেশিরভাগটাই চলে Search Console, PageSpeed Insights, Chrome DevTools আর Screaming Frog-এর 500 URL ভার্সনে, যেগুলোর কোনোটার জন্য টাকা লাগে না। টুল কিনবেন যখন এগুলো ছাড়িয়ে যাবেন, তার আগে না।

আমরা যে চারটা টুলে হাত দিতাম, আর আমাদের ক্যাটালগে সেগুলো কোথায়:

টুলঅডিটে কী করেআমাদের এখানেপ্ল্যান
Screaming Frog500-র বেশি URL ক্রল, ক্রল সেভ, JavaScript রেন্ডার৳1,230/মাসশুধু Ultimate
Semrushক্লাউড সাইট অডিট, কিওয়ার্ড ডেটা, ইনডেক্সিং নিয়ে দ্বিতীয় মত৳620/মাসEssential, Boost, Advanced, Ultimate
SE Rankingশিডিউল করা অডিট, র‍্যাংক ট্র্যাকিং, ক্লায়েন্টের জন্য হোয়াইট-লেবেল রিপোর্ট৳620/মাসশুধু Ultimate
Woorankক্লায়েন্ট নিজে পড়ে বুঝতে পারে এমন গ্রেড দেওয়া রিপোর্ট৳620/মাসBoost, Advanced, Ultimate

কেনার আগে তিনটা কথা।

Screaming Frog আর SE Ranking কেবল Ultimate প্ল্যানে। Advanced প্ল্যান 25টা টুলের জন্য ৳3,700/মাস, তাতে Semrush আর Woorank আছে, সঙ্গে Ahrefs, Moz Pro, Canva আর ChatGPT, কিন্তু এই লেখার মূল দুইটা অডিট টুল নেই। আপনি যদি এখানে এসেই থাকেন Screaming Frog-এর জন্য, তাহলে Advanced ভুল প্ল্যান।

চারটা টুল আলাদা আলাদা কিনলে যেকোনো প্ল্যানের চেয়ে কম পড়ে। উপরের চারটা সিঙ্গেল দাম যোগ করে Advanced-এর ৳3,700/মাস আর Ultimate-এর ৳6,040/মাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। অডিট করাই যদি আপনার একমাত্র কাজ হয়, সিঙ্গেলগুলোই কিনুন। 91টা টুলের Ultimate প্ল্যান তখনই যুক্তিসঙ্গত যখন এর ডিজাইন, AI আর ভিডিও টুলগুলোও আপনি ব্যবহার করেন, আর SEO-র পাশাপাশি কনটেন্ট ও সোশ্যাল বেচেন এমন ফ্রিল্যান্সারের ক্ষেত্রে সেটা হতেই পারে (কনটেন্ট স্ট্যাকের খরচ নিয়ে লেখাটায় সেই হিসাবটা করা আছে)। SE Ranking আলাদা করে নিলে শুধু ক্লায়েন্ট রিপোর্টিংয়ের জন্যই ৳620/মাস উসুল হয়ে যায়, সেটা ওই রিভিউতে ধরা আছে।

শেয়ার্ড অ্যাক্সেসের সীমা আছে। আপনি ব্রাউজারে ড্যাশবোর্ড দিয়ে লগইন করেন; কোনো API key নেই, তাই যেসব কাজে API লাগে (যেমন Screaming Frog-এর PageSpeed Insights ইন্টিগ্রেশন, যার জন্য আপনার নিজের Google API key লাগে, সেটা আলাদা ব্যাপার) সেগুলো ব্যক্তিগত লাইসেন্সের চেয়ে ভিন্নভাবে চলে। অ্যাকাউন্ট মাঝে মাঝে রিসেট হয়, ফেয়ার-ইউজ সীমা আছে, আর ক্লাউড টুলে একসঙ্গে অনেকে ক্রল চালালে সবার জন্যই ধীর হয়ে যায়। ভারী ক্রলগুলো বাংলাদেশের দিনের বেলায় রাখুন, যখন অ্যাকাউন্ট ভাগ করা অন্য বাজারগুলোয় রাত। এক দফার অডিটের জন্য এই রফাটা ঠিক আছে। কিন্তু ত্রিশটা ক্লায়েন্ট সাইটে শিডিউল করা অডিট চালানো এজেন্সি হলে ভেন্ডরের লাইসেন্সই কিনুন।

পেমেন্ট নিয়ে: বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য কার্ড আজ কাজ করে, আর USDT সব জায়গাতেই চলে। bKash আর Nagad শিগগিরই আসছে, তাই ওয়ালেট থেকে টাকা দিতে চাইলে চেকআউটে সেটা লাইভ দেখানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, ধরে নিয়ে প্ল্যান করবেন না। প্রাইসিং পেজে মার্কেট BD করলে প্রতিটা প্ল্যান টাকায় দেখায়, আর পুরো ক্যাটালগ নিয়ে লেখা আছে বাংলাদেশের গাইডে

রিপোর্ট এমনভাবে দিন যাতে পরের কাজটাও পান

ক্লায়েন্টের মনে থাকে রিপোর্টটা। ঢাকা আর চট্টগ্রাম থেকে এই কাজ করা পরিচিত কয়েকজনের ক্ষেত্রে যে নিয়মগুলো কাজে দিয়েছে:

তিনটা finding দিয়ে শুরু করুন, ত্রিশটা দিয়ে না। প্রথম পাতায় থাকবে সবচেয়ে বড় সমস্যাটা, সেটা ক্লায়েন্টের কী খরচ করাচ্ছে (কাস্টমারে, র‍্যাংকিংয়ে, আর যেখানে হিসাব করা যায় সেখানে টাকায়), আর ঠিক করতে কী লাগবে। পুরো স্প্রেডশিট যাক পরিশিষ্টে, যেটা কেউ পড়ে না, আর সেটাই ঠিক আছে; ওটা প্রমাণ করে কাজটা আপনি করেছেন।

ক্লায়েন্টের নিজের ফোনে দেখান। মিটিংয়ে তার সাইট আর প্রতিযোগীর সাইট পাশাপাশি Slow 4G-তে খুলুন, কিংবা 20 সেকেন্ডের একটা স্ক্রিন রেকর্ড পাঠান। রিপোর্টের সংখ্যা দেখে কারো গায়ে লাগে না; ছয় সেকেন্ড ধরে ঘুরতে থাকা লোডার দেখলে লাগে।

ঠিক করার দাম বলুন। প্রতিটা অডিট শেষ হবে এক পাতার একটা প্রস্তাবে: “প্রথম মাস: হোস্টিং সরানো আর ছবি কম্প্রেস, এত টাকা। দ্বিতীয় মাস: 12টা পেজের লেখা নতুন করে, এত টাকা।” অডিটটা ছিল সস্তা বিক্রি; আসল বিক্রি এই প্রস্তাবটা। লোকাল ক্লায়েন্টকে টাকায় কোট করুন, আর Fiverr বা Upwork-এ ডলারে, যেখানে প্ল্যাটফর্মই টাকাটা ধরে রাখে।

একটা PDF আর একটা শেয়ার করা শিট, দুইটাই দিন। Fiverr-এর ক্লায়েন্ট একটা ফাইল আশা করে। লোকাল ক্লায়েন্ট এমন কিছু চান যেটা তার ওয়েব ডেভেলপারকে ফরওয়ার্ড করা যায়, আর সেই ডেভেলপার প্রায়ই তার আত্মীয় বা বন্ধু। URL-এর তালিকা আর পাস/ফেল কলামওয়ালা শিটটাই ডেভেলপার আসলে ব্যবহার করবে।

আগে-পরের তুলনাটা আগে থেকে সাজিয়ে রাখুন। ক্রলটা সেভ করুন (পেইড Screaming Frog দিয়ে, বা SE Ranking-এর শিডিউল করা অডিট দিয়ে, দুইটাই কেবল Ultimate-এ, নয়তো শুধু এক্সপোর্টটা রেখে দিন)। 60 দিন পরে আবার চালিয়ে না চাইতেই তুলনাটা পাঠান। এই ব্যবসায় এর চেয়ে সহজ আপসেল আর নেই।

ফলাফল নিয়ে বাড়িয়ে বলবেন না। সাইট যদি খারাপ হোস্টিংয়ে থাকে আর কনটেন্ট না থাকে, পরিষ্কার বলুন যে এই দুইটা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত অডিট র‍্যাংকিং বদলাবে না, আর ওই দুইটার দাম বলুন। এই বাজারের ক্লায়েন্টরা “গ্যারান্টিসহ পেজ ওয়ান” বলা এজেন্সির হাতে আগেই ঠকেছেন; যে ফ্রিল্যান্সার বলে “তিন মাস লাগবে, আর কারণটা এই”, রেফারেন্সটা সে-ই পায়।

প্রতিটা ক্লায়েন্টে একই সাত ধাপ চালালে অডিটটা একটা টেমপ্লেট হয়ে যায়। দ্বিতীয়টায় সময় লাগে অর্ধেক, আর পঞ্চমটায় একটা সকাল।

সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

বাংলাদেশি ক্লায়েন্টের সাইটে Screaming Frog-এর 500 URL ভার্সন কি যথেষ্ট?

চেম্বার, শোরুম, স্কুল, রেস্টুরেন্ট বা সার্ভিস ব্যবসার সাইটে সাধারণত যথেষ্ট; ওসব সাইট খুব কমই 200 পেজ পেরোয়। অনলাইন স্টোর, প্রপার্টি পোর্টাল, নিউজ সাইট বা ফিল্টার আর পেজিনেশনওয়ালা যেকোনো কিছুতে যথেষ্ট না, আর ক্রল কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই 500-এ থেমে যাবে। ঠিক করার আগে Search Console-এ পেজের সংখ্যাটা দেখে নিন।

Screaming Frog আর SE Ranking কোন প্ল্যানে আছে?

কেবল Ultimate প্ল্যানে। Advanced-এ এর একটাও নেই। শুধু এই দুইটাই যদি দরকার হয়, ৳1,230/মাস আর ৳620/মাস দিয়ে সিঙ্গেল টুল হিসেবে কেনাই যেকোনো প্ল্যানের চেয়ে সস্তা, আর পুরোটা প্রাইসিং পেজে দেখা যায়।

টেকনিক্যাল অডিটের জন্য কি Semrush বা Ahrefs লাগবেই?

না। টেকনিক্যাল অডিট চলে একটা ক্রলার, Search Console আর PageSpeed Insights দিয়ে। Semrush দরকার হয় যখন “কী ভাঙা” থেকে আপনি “এই সাইটের কীসে র‍্যাংক করা উচিত”-এ যান, মানে প্রস্তাব লেখার ধাপে। এটা আমাদের বেচা প্রতিটা প্ল্যানে আছে, Essential-সহ, তাই ওই ধাপে পৌঁছে কিওয়ার্ড ডেটা যোগ করার এটাই সবচেয়ে সস্তা পথ।

বাংলাদেশি ইউজার যেভাবে দেখে, Core Web Vitals সেভাবে মাপব কীভাবে?

আগে PageSpeed Insights-এ বাস্তব Chrome ইউজারের ফিল্ড ডেটা দেখুন; সাইট এত ছোট যে ডেটাই নেই এমন হলে Chrome DevTools-এ নেটওয়ার্ক থ্রটলিং Slow 4G আর CPU থ্রটলিং 4x রেখে Lighthouse চালান এবং সেটাই রিপোর্ট করুন। অফিসের লাইনে থ্রটলিং ছাড়া চালানো রান কখনো রিপোর্ট করবেন না।

বাংলা আর ইংরেজি সাইটে hreflang কীভাবে বসাবে?

প্রতিটা ভাষার জন্য আলাদা URL, বাংলা পেজে lang="bn", আর প্রতিটা পেজে দুই ভাষার দিকেই hreflang ট্যাগ, সঙ্গে একটা x-default। দুই দিকের রেফারেন্সই থাকতে হবে, নয়তো Google জোড়াটা আমলে নেয় না। লাইসেন্স ছাড়া Screaming Frog-এর hreflang রিপোর্টেই অনুপস্থিত রিটার্ন লিংকগুলোর তালিকা পাওয়া যায়। আর বসানোর আগে নিশ্চিত হোন বাংলা লেখাটা ইউনিকোডে আছে, ছবিতে বা পুরনো ASCII এনকোডিংয়ে না।

BundledSEO-তে কি bKash বা Nagad দিয়ে টাকা দেওয়া যায়?

এখনো না। বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য আজ কার্ড আর USDT কাজ করে; bKash আর Nagad শিগগিরই আসছে। চেকআউটে লাইভ দেখানোর আগে কোনো ওয়ালেট ধরে নিয়ে কেনার পরিকল্পনা করবেন না।

বাংলাদেশে একটা SEO অডিটের দাম কত হওয়া উচিত?

আমরা ফ্রিল্যান্সারের রেট ঠিক করি না, আর পার্থক্যটা বিশাল: ফেসবুক গ্রুপে টেমপ্লেট রিপোর্ট কয়েক হাজার টাকায় বিক্রি হয়, আর দাম লেখা প্রস্তাবসহ পুরো সাত ধাপের অডিট এমন ব্যবসার কাছে অনেক বেশি দামে যায় যার আয় এর সঙ্গে জড়িত। অডিটটা যদি মাসিক রিটেইনারে নিয়ে যায়, দাম কম রাখুন; আর ওই ক্লায়েন্টের জন্য এটাই একমাত্র কাজ হলে পুরো দামই নিন।

Screaming Frog-এর মতো ডেস্কটপ টুলে শেয়ার্ড অ্যাক্সেস কীভাবে কাজ করে?

ক্লাউড টুলের চেয়ে আলাদাভাবে, কারণ প্রোগ্রামটা ব্রাউজার ট্যাবে না, আপনার নিজের মেশিনে চলে। কেনার আগে টুল পেজে দেখে নিন অ্যাক্সেস কীভাবে দেওয়া হয়, আর মনে রাখুন নিজের Google API key লাগে এমন যেকোনো ইন্টিগ্রেশন (PageSpeed Insights, Search Console) লাইসেন্স যেখান থেকেই আসুক, আপনার দিক থেকেই সেট করতে হবে।

আরও পড়ুন

টুল রিভিউ · বাংলাদেশ

SE Ranking রিভিউ (২০২৬): ক্লায়েন্টকে রিপোর্ট পাঠানো বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারের জন্য

আলাদা বনাম প্ল্যান · বাংলাদেশ

বাংলাদেশের content freelancer-এর জন্য ChatGPT, Grammarly আর Canva: আলাদা কিনবেন, না বান্ডলে

SEO বাস্তবে · বাংলাদেশ

লোকাল বিজনেসের কীওয়ার্ড রিসার্চ: ব্যাংলিশ, বাংলা হরফ আর near me সার্চ ধরার পদ্ধতি