Language Englishहिन्दीবাংলাاردو
টুল রিভিউ · বাংলাদেশ

vidIQ রিভিউ ২০২৬: বাংলা YouTube চ্যানেলে এই খরচটা উঠে আসে কি?

বাংলা YouTube চ্যানেলের জন্য vidIQ-র সোজাসাপটা রিভিউ: কিওয়ার্ড ও ট্যাগ রিসার্চ, প্রতিযোগী ট্র্যাকিং, AI ফিচার, আর আমাদের এখানে টাকায় খরচটা কেমন পড়ে।

vidIQ আইকনের পাশে একটি ফ্ল্যাট ইলাস্ট্রেশন, যেখানে সোজা করে দাঁড় করানো একটা স্মার্টফোনে ভিডিও চলছে এবং ইন্ডিগো চৌকো ঘরের উপর ম্যারিগোল্ড রঙের সাদামাটা প্লে-ট্রায়াঙ্গল আঁকা।
এই লেখায়
  1. সোজা কথায় রায়
  2. vidIQ আসলে কী
  3. vidIQ নিজে কত নেয়
  4. বাংলা চ্যানেলে কোন ফিচারগুলো আসলে লাগে
  5. টাকার হিসাব: বাংলা কনটেন্টের আয় আর টুলের বাজেট
  6. বাংলাদেশে এটা কার জন্য, কার জন্য নয়
  7. BundledSEO থেকে কী পাচ্ছেন
  8. ক্যাটালগের আশেপাশের টুলগুলো
  9. বাংলাদেশ থেকে কেনার নিয়ম
  10. সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
vidIQ আইকন

সোজা কথায় রায়

  • vidIQ মূলত রিসার্চের টুল। বাংলা চ্যানেলে এর কাজ তিন জায়গায় ধরা পড়ে: কিওয়ার্ড আর ট্যাগ রিসার্চে, নিজের নিশের বাকি চ্যানেলগুলো কী আপলোড করছে সেদিকে চোখ রাখায়, আর রোজ সকালে আসা আইডিয়ার লিস্টে। কী বানাবেন সেটা যদি আগে থেকেই জানা থাকে আর আটকে থাকে শুধু এডিটিংয়ের গতিতে, তাহলে এই টুল থেকে তেমন কিছু পাবেন না।
  • আমাদের এখানে সিঙ্গল টুল হিসেবে vidIQ-র দাম ৳620/মাস। প্ল্যানের দিকে এটা শুধু Ultimate-এ আছে, ৳6,040/মাস, যার ভেতরে 91টা টুল। সঙ্গে Ahrefs, Semrush আর বাকি পুরো ক্যাটালগ দরকার না হলে সিঙ্গলটাই নিন। প্ল্যানের দাম একা টুলটার প্রায় দশ গুণ।
  • আজকের দিনে পেমেন্ট হয় কার্ডে আর USDT-তে। bKash আর Nagad আসছে, এখনো চালু হয়নি, কাজেই এই মাসের বাজেট ওই দুটোর ভরসায় সাজাবেন না।

টাইটেলে যে “Boost” শব্দটা ঘোরাফেরা করে, সেটা vidIQ-র নিজের পেইড টিয়ার। আমাদেরও Boost নামে একটা প্ল্যান আছে এবং তাতে vidIQ নেই। প্রতি সপ্তাহে কেউ না কেউ এখানেই গুলিয়ে ফেলেন, তাই আগেই বলে রাখি: আমাদের প্রাইসিং পেজে vidIQ পাবেন সিঙ্গল টুলের তালিকায় আর Ultimate-এ, অন্য কোথাও না।

vidIQ আসলে কী

vidIQ দুটো জিনিসের জোড়া, একটা ব্রাউজার এক্সটেনশন আর একটা ওয়েব অ্যাপ, দুটোই বসে YouTube-এর উপরে। Chrome-এ এক্সটেনশন বসিয়ে লগইন করলে এরপর যত YouTube পেজ খুলবেন, প্রতিটার পাশে একটা বাড়তি প্যানেল এসে দাঁড়াবে: ভিডিওটা কী কী ট্যাগ দিয়েছে, ঘণ্টায় কত ভিউ যাচ্ছে তার আন্দাজ, কোন কিওয়ার্ডে র‍্যাঙ্ক করছে বলে মনে হচ্ছে, চ্যানেলটা কত দিন পরপর আপলোড দেয়। YouTube Studio-র ভেতরে ঢুকলে একই এক্সটেনশন আপনার টাইটেল, ডেসক্রিপশন আর ট্যাগ লেখার সময়েই নম্বর দিতে থাকে আর বিকল্প শব্দ সাজেস্ট করে।

ভারী কাজটা হয় vidiq.com-এর ওয়েব অ্যাপে। কিওয়ার্ড টুল, প্রতিযোগীদের লিস্ট, ডেইলি আইডিয়া ফিড, AI টাইটেল আর থাম্বনেইল হেল্পার, চ্যানেল অডিট রিপোর্ট, সবই ওখানে। এক্সটেনশন হলো রোজকার জিনিস, আর ওয়েব অ্যাপ হলো সপ্তাহে একদিন বসে পরের সাতটা দিনের প্ল্যান করার জায়গা।

টুলটা বানানো হয়েছে ছোট আর মাঝারি চ্যানেলের জন্য, যারা নিয়মিত আপলোড দেয় আর অন্ধকারে ঢিল ছোড়া কমাতে চায়। আমাদের কাছে vidIQ নিয়ে যাঁরা জানতে চান তাঁদের বেশির ভাগই এই দলে: ঢাকার কোনো মোবাইল রিভিউয়ার যিনি সপ্তাহে দুটো ভিডিও দেন, কিংবা বিসিএস আর ব্যাংক জবের প্রস্তুতির চ্যানেল, সার্কুলার বেরোনোর মাসে যাদের সারা বছরের ট্রাফিক ঢোকে। কারও পিছনে টিম নেই, আলাদা এডিটর নেই। প্রশ্ন একটাই: ভিডিওর নাম কী দেব, আর সেই নামটা আদৌ কেউ সার্চ করে কি না।

vidIQ নিজে কত নেয়

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আমরা vidiq.com/pricing খোলার চেষ্টা করেছিলাম, যাতে ভেন্ডরের আজকের নম্বরগুলো এখানে বসানো যায়। তিন রকম পথে অনুরোধ পাঠিয়েও প্রাইস লিস্টের বদলে পেজটা বট চেক ফেরত দিয়েছে। স্মৃতি থেকে পুরনো একটা অঙ্ক তুলে সেটাকে আজকের দাম বলে চালানোর চেয়ে নম্বরগুলো বাদ রাখাই ভালো। নিজে দেখে নিন vidIQ-র প্রাইসিং পেজে। লেখার সময় পেইড টিয়ারের নাম ছিল Boost আর Max, আর পেজটা মাসিক ও বাৎসরিক দুই রকম বিলিং দেখায় US ডলারে।

vidIQ-র বিল ডলারে হয়। স্টিকারে যা-ই লেখা থাকুক, আপনার ব্যাংক সেটাকে নিজের কার্ড রেটে ভাঙবে আর তার উপরে নিজের মার্কআপ বসাবে। এর জন্য ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজ্যাকশন চালু করা ডুয়াল কারেন্সি কার্ড লাগে, আর বাংলাদেশে ইস্যু হওয়া সব কার্ডে সেটা চালু থাকে না। চালু করাতে সাধারণত পাসপোর্ট নিয়ে ব্রাঞ্চে যেতে হয়, এনডোর্সমেন্ট করাতে হয়, আর ডলার কোটার হিসাবও পাসপোর্টের সঙ্গেই বাঁধা থাকে। আরেকটা কথা: পেজটা সামনে রাখে বাৎসরিক দাম, তাই মাসিকটা আলাদা করে পড়ুন। এক মাস চালিয়ে দেখে ছেড়ে দেওয়ার আসল খরচ ওটাই।

বাংলা চ্যানেলে কোন ফিচারগুলো আসলে লাগে

কিওয়ার্ড আর ট্যাগ রিসার্চ

vidIQ-র টাকা উসুল হয় মূলত কিওয়ার্ড টুলে। একটা টপিক লিখে দিলে সার্চ ভলিউমের আন্দাজ, কম্পিটিশন স্কোর, সম্পর্কিত শব্দ আর উপরে থাকা ভিডিওগুলো কী ট্যাগ ব্যবহার করছে, সব একসঙ্গে আসে। এক্সটেনশনের দিকে যেকোনো প্রতিযোগীর ভিডিও খুললেই তার পুরো ট্যাগ লিস্ট চোখের সামনে, যেটা YouTube নিজে লুকিয়ে রাখে।

বাংলা চ্যানেলে দুটো অভ্যাস এই টুলটাকে অনেক বেশি কাজের করে তোলে। প্রথমটা হলো একই টপিক তিনভাবে সার্চ করা: বাংলা হরফে, বাংলিশে, আর ইংরেজিতে। সিলেটের একজন দর্শক ফোন রিভিউ খুঁজতে গিয়ে লিখতে পারেন “রেডমি নোট ১৪ রিভিউ”, কিংবা “redmi note 14 review bangla”, কিংবা শুধু “redmi note 14 review”। তিন জায়গায় ভলিউম আর কম্পিটিশনের হিসাব অনেকটাই আলাদা আসে, আর বাংলিশ ভার্সনটাতেই প্রায়ই দেখা যায় সার্চ আছে অথচ প্রতিযোগিতা পাতলা। বাংলা হরফের ক্যোয়ারিতে vidIQ-র আন্দাজ ইংরেজির তুলনায় কাঁচা, ওগুলোকে গোনা সংখ্যা না ধরে দিকনির্দেশ ধরে এগোনোই নিরাপদ।

দ্বিতীয় অভ্যাসটা হলো ট্যাগ লেখা দর্শক যে হরফে টাইপ করে সেই হরফে, শুধু ইংরেজিতে নয়। যে ভিডিওর দর্শক বাংলায় সার্চ করে, তার পুরো ইংরেজি ট্যাগ সেটকেও vidIQ দিব্যি “ভালো” বলে নম্বর দিয়ে দেবে। স্কোরটা একটা মোটা দাগের হিসাব মাত্র। কাজে লাগে সাজেশনের লিস্টটা।

প্রতিযোগী চ্যানেলে নজর

নিজের নিশের চ্যানেলগুলো competitors লিস্টে যোগ করে রাখলে vidIQ দেখাবে তারা কত দিন পরপর আপলোড দেয়, সাম্প্রতিক ভিউ কেমন, আর কোন ভিডিওগুলো তাদের নিজেদের গড় ছাড়িয়ে গেছে। ক্রিকেট নিয়ে বিশ্লেষণ বা এইচএসসির প্রস্তুতির মতো নিশে, যেখানে দশটা চ্যানেল একই কয়েক লাখ দর্শকের পিছনে ছুটছে, এভাবেই টের পাওয়া যায় যে প্রতিদ্বন্দ্বীর মঙ্গলবারের ভিডিওটা স্বাভাবিকের তিন গুণ ভিউ পেয়েছে। তারপর ঠিক করবেন বৃহস্পতিবারে একই বিষয়ে নিজে কিছু বানাবেন কি না।

প্রতি ভিডিওর “views per hour” সংখ্যাটার দিকে তাকিয়ে থাকাই সবচেয়ে কাজের। ওটা বলে এই মুহূর্তে কোনটা চলছে, আর সেটা মোট ভিউ সবচেয়ে বেশি কোনটার তার চেয়ে আলাদা জিনিস। অ্যালগরিদম এই সপ্তাহে কাকে ঠেলছে, সেটা প্রথমটাই বলে।

থাম্বনেইল আর তার আশেপাশের টুল

vidIQ-তে থাম্বনেইলের জন্য কয়েকটা জিনিস আছে: একটা AI জেনারেটর, একটা প্রিভিউ যেখানে নকল সার্চ রেজাল্টে প্রতিযোগীদের পাশে নিজের থাম্বনেইল দেখা যায়, আর একটা তুলনার ভিউ। যেটা এতে নেই, সেটা হলো লাইভ ভিডিওতে সত্যিকারের A/B টেস্ট, কারণ দুই দল দর্শককে দুটো আলাদা থাম্বনেইল দেখিয়ে ফারাক মাপার ক্ষমতা কেবল YouTube-এর নিজের হাতে। YouTube Studio-র “Test and compare” ঠিক ওই কাজটাই করে এবং এখন বেশির ভাগ চ্যানেল বাড়তি খরচ ছাড়াই সেটা পায়।

তাই vidIQ-র প্রিভিউটা ব্যবহার করুন এটা ধরার জন্য যে থাম্বনেইলের লেখা ফোনের স্ক্রিনে পড়া যাচ্ছে না, কারণ দেশের বেশির ভাগ দর্শক ফোনেই দেখেন। আসল টেস্টটা করুন Studio-তে। কেউ যদি থাম্বনেইল A/B টেস্টের জন্য vidIQ কিনতে বলে, সে এমন একটা ফিচারের কথা বলছে যেটা এই টুলে নেই।

AI ফিচারগুলো

ডেইলি আইডিয়া ফিড, AI টাইটেল জেনারেটর, আউটলাইন লেখার টুল আর চ্যানেল কোচ, সবগুলোই পেইড টিয়ারে। ছোট চ্যানেলের জন্য এর মধ্যে ডেইলি আইডিয়াই সবচেয়ে কাজের: আপনার নিশে কী ট্রেন্ড করছে আর প্রতিযোগীরা কী করছে দেখে vidIQ প্রতিদিন সকালে ছোট একটা লিস্ট ধরিয়ে দেয়। বেশির ভাগ বাদ দেবেন, কিন্তু সপ্তাহে দু-একটা সাজেশন দ্বিতীয়বার তাকিয়ে দেখার মতো হয়, আর তাতে আপনার রিসার্চের সময় যায় না।

AI লেখার টুলগুলো মূলত ইংরেজি দিয়ে শেখানো। বাংলা টাইটেল চাইলে যা আসে তা ব্যাকরণে ঠিক কিন্তু প্রাণহীন, এমন বাক্য যেটা এ দেশের কোনো ক্রিয়েটর থাম্বনেইলে বসাবেন না। আমাদের পরামর্শ হলো কাঠামোটা ইংরেজিতে বানিয়ে নিয়ে বাংলাটা নিজের হাতে লেখা। ইংরেজি বা বাংলিশ চ্যানেল হলে জেনারেটরগুলো প্রথম ড্রাফট হিসেবে চলনসই।

চ্যানেল অডিট, যেটা এন্ড স্ক্রিন নেই, আপলোডের সময় এলোমেলো, কিংবা কোন ভিডিওতে ট্যাগ বসানো হয়নি এসব ধরিয়ে দেয়, শুরুতে একবার আর তারপর তিন মাসে একবার চালালেই যথেষ্ট। এটা রোজকার জিনিস না।

YouTube Studio-র ভেতরে এক্সটেনশন

টাইটেল আর ডেসক্রিপশন লেখার সময় যে লাইভ স্কোরটা চলতে থাকে, শেষ পর্যন্ত মানুষ ওটাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে, কারণ প্রতিটা আপলোডে ওটা সামনে থাকে। কয়টা ট্যাগ দিলেন, ডেসক্রিপশনের কোথায় কিওয়ার্ড বসল, টাইটেলের সঙ্গে বেছে নেওয়া শব্দগুলো মিলছে কি না, এসব নিয়ে খুঁতখুঁত করে। সারা সন্ধ্যা এডিট করে রাত একটায় আপলোড দিতে বসা মানুষটার জন্য এই চেকলিস্ট ঠিক সেই জিনিসগুলোই ধরে ফেলে যেগুলো এমনিতে ভুলে যেতেন।

টাকার হিসাব: বাংলা কনটেন্টের আয় আর টুলের বাজেট

উত্তর আমেরিকার দর্শকের জন্য বানানো ইংরেজি কনটেন্টের তুলনায় বাংলা কনটেন্টের বিজ্ঞাপন RPM কম, এটা নতুন কোনো খবর নয়। ফলে এ দেশের অনেক ক্রিয়েটরের আয়ের বড় অংশ আসে স্পনসরশিপ, অ্যাফিলিয়েট লিংক আর নিজের কোর্স বা প্রোডাক্ট থেকে, AdSense সেখানে ছোট একটা ভাগ।

ডলারে বিল হওয়া একটা সাবস্ক্রিপশন সেই বাজেটে বেশ মোটা দাগের খরচ। এই লেখাটা যাঁরা পড়ছেন তাঁদের বেশির ভাগ তাই ভেন্ডরকে সরাসরি না দিয়ে শেয়ার্ড অ্যাকসেসের কথা ভাবছেন, আর সপ্তাহে ঘণ্টাখানেক ব্যবহার হয় এমন টুলের জন্য ভাবনাটা যুক্তিসংগত। তবে উল্টো দিকটাও বলে রাখি: যদি সারা দিন ধরে এটা খোলা থাকে আর চ্যানেলই যদি আপনার রুটিরুজি হয়, তাহলে ভেন্ডরকে দিয়ে নিজের অ্যাকাউন্ট নিন। নিচে রিসেট আর ফেয়ার ইউজ নিয়ে যা লিখেছি, সেগুলো তখন বিরক্তিকর লাগবে।

বাংলাদেশে এটা কার জন্য, কার জন্য নয়

vidIQ মানায় এমন চ্যানেলে যেটা অন্তত সপ্তাহে একবার আপলোড দেয়, সার্চ ট্রাফিকের জন্য লড়ে, আর যেখানে সপ্তাহে এক ঘণ্টা ওয়েব অ্যাপে বসে কিওয়ার্ড আর প্রতিযোগী ঘাঁটার মতো একজন লোক আছে। পড়াশোনার কনটেন্ট, প্রোডাক্ট রিভিউ, রান্না আর হাউ-টু চ্যানেল, কৃষি আর খবরের বিশ্লেষণ, সবগুলোই এই ছাঁচে পড়ে। এগুলো সার্চনির্ভর ফরম্যাট, আর সার্চেই vidIQ-র ডেটা আছে।

পুরোপুরি Shorts-এর উপর চলা চ্যানেলে এটা তত খাটে না। Shorts-এর ট্রাফিক আসে ফিড থেকে, সার্চ থেকে নয়, আর কেন একটা Shorts ঠেলা খেল আর আরেকটা খেল না, সে বিষয়ে vidIQ-র কিওয়ার্ড ডেটা প্রায় কিছুই বলে না। পাঁচটা ভিডিও নিয়ে সদ্য শুরু করা চ্যানেলের জন্যও এটা তাড়াহুড়ার কেনা: প্রতিযোগী ট্র্যাকিং তখনই মজার যখন নাম ধরে বলার মতো প্রতিযোগী আছে, আর আপনার চ্যানেল আসলে কী নিয়ে, সেই সিদ্ধান্ত কিওয়ার্ড টুল নিতে পারবে না।

BundledSEO থেকে কী পাচ্ছেন

আমাদের এখানে একা vidIQ-র দাম ৳620/মাস। প্ল্যানের দিকে এটা ঠিক এক জায়গায় আছে, Ultimate প্ল্যানে, ৳6,040/মাস, ভেতরে 91টা টুল। Essential, Boost বা Advanced-এ এটা নেই। আজকের স্ট্যাটাস আর লগইনের রাস্তা দেখে নিন vidIQ টুল পেজে

সিঙ্গল নাকি প্ল্যান

ক্রিয়েটরদের চারটা টুল একে একে কিনলে কত পড়ে, আর চারটাই যে একমাত্র প্ল্যানে আছে তার দাম কত:

টুলআলাদা কিনলে, প্রতি মাসেUltimate Plan-এ আছে?
VidIQ৳620হ্যাঁ
CAPCUT$5হ্যাঁ
Canva৳620হ্যাঁ
ElevenLabs৳620হ্যাঁ
সবগুলো 4, একটা একটা করে৳1,860 + $5
Ultimate Plan · 91টি টুল৳6,040
পার্থক্যপ্ল্যানে ৳4,180 বেশি (শুধু USD-এর টুলগুলোর $5 আলাদা)

চারটা আলাদা করে কিনলেও Ultimate-এর দামের অনেক নিচেই থাকছেন। Ultimate তখনই মানে রাখে যখন ক্যাটালগের SEO অংশটাও আপনার লাগবে: Ahrefs, Semrush, SE Ranking, Screaming Frog, আর তাদের পাশাপাশি ডিজাইন ও AI টুলগুলো। যিনি ভিডিওর সঙ্গে ব্লগও চালান বা ক্লায়েন্টের SEO-র কাজ করেন, তাঁর এটা লাগতে পারে। যিনি শুধু ভিডিও বানান, তিনি সিঙ্গলগুলো নিয়ে বাকি টাকা পকেটে রাখুন।

একটা প্যাঁচ আছে। আমাদের এখানে CapCut-এর দাম শুধু US ডলারে, টাকার দাম নেই, তাই টেবিলেও সেটা ওভাবেই দেখাচ্ছে। Canva আর ElevenLabs দুটোরই টাকার দাম আছে এবং দুটোই তুলনায় সস্তা Advanced প্ল্যানে আছে, যেখানে vidIQ বা CapCut নেই। মানে যাঁর Canva, ElevenLabs আর গাদা গাদা SEO টুল দরকার কিন্তু vidIQ দরকার নেই, তাঁর জন্য মাঝামাঝি একটা রাস্তা আছে। যাঁর vidIQ-ই লাগবে, তাঁর জন্য নেই।

শেয়ার্ড অ্যাকসেস কীভাবে চলে

ব্রাউজারে ড্যাশবোর্ড থেকে লগইন করলে আপনাকে এমন একটা vidIQ অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় যেটা আরও কয়েকজন মেম্বারও ব্যবহার করেন। আলাদা কোনো API কি নেই, নিজের নামে আলাদা vidIQ পাসওয়ার্ডও নেই। এক্সটেনশন আপনাকে পেইড ইউজার হিসেবেই দেখে আর ফেয়ার ইউজের সীমার ভেতরে পেইড ফিচারগুলো চালু থাকে।

কেনার আগে ওই সীমাটুকু বুঝে নেওয়া দরকার। vidIQ অ্যাকাউন্ট ধরে ধরে কিছু জিনিস মেপে রাখে: কতগুলো প্রতিযোগী ট্র্যাক করা যাবে, কতবার কিওয়ার্ড দেখা যাবে, AI দিয়ে কতবার বানানো যাবে। ওই ভাগগুলো সবাই মিলে ভাগ করে নেন। সকালে কেউ লম্বা রিসার্চ সেশন চালালে সন্ধ্যায় আপনি কম জায়গা পেতে পারেন। ভারী কাজগুলো ছড়িয়ে করুন, আর দিনে পঞ্চাশবার ঢুঁ মারার বদলে কিওয়ার্ড রিসার্চটা এক বসাতেই সেরে ফেলুন।

অ্যাকাউন্ট রিসেট হতে পারে। তখন শেয়ার্ড অ্যাকাউন্টে জমানো প্রতিযোগীর লিস্ট আর সেভ করা কিওয়ার্ডও চলে যায়। ট্র্যাক করা চ্যানেলের তালিকা আর কিওয়ার্ডের নোট নিজের স্প্রেডশিটে রাখুন, যাতে vidIQ অ্যাকাউন্টটাই একমাত্র কপি না হয়।

একসঙ্গে অনেকে ভারী কাজ চালালে সবারই গতি কমে। রাত ৯টার দিকে এক্সটেনশন ঢিমে লাগলে কারণটা এটাই, দিনের আগের ভাগে চেষ্টা করে দেখুন।

নিজের চ্যানেল কানেক্ট করার প্রশ্ন

vidIQ-তে কাজের জিনিসগুলোর প্রায় সবই, মানে কিওয়ার্ড টুল, ট্যাগ ইন্সপেক্টর, প্রতিযোগী ট্র্যাকিং, ডেইলি আইডিয়া আর Studio-র ভেতরের স্কোর, চলে পাবলিক ডেটা দিয়ে কিংবা আপনি যে পেজটা খুলে রেখেছেন সেটা পড়ে। এর জন্য আপনার চ্যানেল ওই অ্যাকাউন্টে যুক্ত থাকার দরকার নেই।

গুটিকয়েক ফিচারের জন্য চ্যানেল যুক্ত করতে হয়: চ্যানেল অডিটের যে অংশ আপনার প্রাইভেট অ্যানালিটিক্স পড়ে, আর কোচিংয়ের কিছু ভিউ। শেয়ার্ড অ্যাকাউন্টে চ্যানেল যুক্ত করা মানে ওই পুলের বাকি মেম্বাররাও কানেক্টেড চ্যানেলের তালিকায় আপনার চ্যানেলটা দেখতে পাবেন। আমরা ওটা করতে বলি না। vidIQ থাক রিসার্চের জন্য, আর প্রাইভেট অ্যানালিটিক্স থাক YouTube Studio-তে, যেখানে সেগুলো এমনিতেই আছে। কানেক্টেড চ্যানেলের ফিচারগুলো যদি আপনার কাজের ধরনে সত্যিই লাগে, সেটা নিজের আলাদা vidIQ অ্যাকাউন্ট কেনার ইশারা।

ক্যাটালগের আশেপাশের টুলগুলো

CapCut আইকন

CapCut vidIQ-র চেয়ে আলাদা কাজ করে: এ দেশে Shorts আর Reels বানানো বেশির ভাগ মানুষের ফোনে এই এডিটরটা আগে থেকেই বসানো আছে। Pro টিয়ার ওয়াটারমার্ক তুলে দেয়, এক্সপোর্টের রেজলিউশন বাড়ায় আর অটো-ক্যাপশনের মডেল দেয়, যেটা ফোনে বানানো কনটেন্টে বাংলা ক্যাপশনের জন্য দামি জিনিস। vidIQ-র মতো এটাও শুধু Ultimate-এ আছে আর আমাদের এখানে ডলারে। আপনার আটকে যাওয়ার জায়গা যদি ভিডিও বানানো হয়, নাম দেওয়া না হয়, তাহলে প্রথমে এটাই কিনুন।

Canva আইকন

Canva হলো সেই জায়গা যেখানে থাম্বনেইলটা আসলে বানানো হয়। vidIQ থাম্বনেইলের প্রিভিউ দেখাতে পারে, AI দিয়ে একটা বানিয়েও দিতে পারে; কিন্তু নিজের মুখ, নিজের রঙ আর ফোনের স্ক্রিনে পড়া যায় এমন বাংলা টাইপ নিয়ে একটা টেমপ্লেট দাঁড় করান Canva-তে, যাতে প্রতিটা ভিডিওতে চেহারাটা এক থাকে। এটা Advanced আর Ultimate দুটোতেই আছে আর এর টাকার দাম আছে। দুটোর মধ্যে ক্রিয়েটর Canva-ই বেশিবার খোলেন।

ElevenLabs আইকন

ElevenLabs কণ্ঠস্বরের জন্য। মুখ না দেখিয়ে এক্সপ্লেইনার বানানো চ্যানেল আর অন্য ভাষায় ডাবিং করা চ্যানেলগুলো ন্যারেশনের কাজে এটা ব্যবহার করে, আর পড়াশোনার কনটেন্টের জন্য এর বাংলা কণ্ঠ চলনসই, যেসব শর্তসহ সেগুলো আমাদের ElevenLabs রিভিউতে লেখা আছে। এটাও Advanced আর Ultimate-এ আছে। আপনার চ্যানেল যদি ক্যামেরার সামনে বসার না হয়ে ভয়েস-ওভারের হয়, তাহলে এডিটরের পরে দ্বিতীয় টুল এটাই।

চারটা একসঙ্গে চালালে মাসে মোট কত পড়ে, তার পুরো হিসাব আছে বাংলাদেশে YouTube ক্রিয়েটর স্ট্যাকের খরচ লেখাটায়।

বাংলাদেশ থেকে কেনার নিয়ম

১. প্রাইসিং পেজে গিয়ে vidIQ সিঙ্গল টুল হিসেবে বাছুন, কিংবা উপরের হিসাবটা পড়ার পরেও পুরো ক্যাটালগ চাইলে Ultimate প্ল্যান। ওই পেজের মার্কেট সুইচার টাকায় দাম দেখায়; কার্ড থেকে আসলে কী কাটবে দেখতে চাইলে সেটা USD-তে ঘুরিয়ে দিন। ২. পেমেন্ট করুন কার্ডে বা USDT-তে। ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজ্যাকশন চালু থাকা কার্ডে পেমেন্ট হয়ে যায়; কার্ড ডিক্লাইন হলে সেটা সাধারণত ব্যাংকের দিকের ইন্টারন্যাশনাল সুইচ, আমাদের চেকআউটের সমস্যা নয়। USDT যেকোনো এক্সচেঞ্জ বা ওয়ালেট থেকে চলে আর মাঝখানে ব্যাংককে লাগে না, এ কারণেই বাংলাদেশের অনেক কাস্টমার ওটা বেছে নেন। bKash আর Nagad আসছে, আজকের দিনে চালু নেই। ৩. my.bundledseo.com-এ লগইন করে vidIQ খুলুন আর ড্যাশবোর্ডের লিংক থেকে এক্সটেনশনটা বসিয়ে নিন। প্রথম সেশনটা কিওয়ার্ড টুলে কাটান, নিজের মূল টপিকটার তিনটা চেহারা নিয়ে, বাংলা হরফ, বাংলিশ আর ইংরেজি, যাতে বুঝতে পারেন আপনার দর্শক আসলে কোনটা টাইপ করেন।

শেয়ার্ড টুল অ্যাকসেস আপনার জন্য নতুন হলে আগে আমাদের গাইডগুলো দেখে নিন, আর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কাজের SEO টুল গাইডে টাকার দামসহ বাকি টুলের তালিকা আছে।

সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Ultimate ছাড়া সস্তা কোনো প্ল্যানে কি vidIQ আছে?

নেই। প্ল্যানের মধ্যে vidIQ শুধু Ultimate-এ। সস্তা রাস্তা হলো এটাকে সিঙ্গল টুল হিসেবে নেওয়া, ৳620/মাস, আর এই প্রশ্ন করা প্রায় প্রত্যেক ক্রিয়েটরকে আমরা এটাই বলি। Ultimate তাঁদের জন্য যাঁদের সঙ্গে SEO টুলগুলো আর বাকি পুরো ক্যাটালগও লাগবে।

বাংলা কিওয়ার্ডে vidIQ ঠিকঠাক কাজ করে?

করে, একটা শর্তসহ। বাংলা হরফের ক্যোয়ারির জন্য কিওয়ার্ড টুল ভলিউম আর কম্পিটিশনের আন্দাজ দেয় বটে, তবে সেগুলো ইংরেজির হিসাবের চেয়ে কাঁচা। প্রতিটা টপিক বাংলা হরফে, বাংলিশে আর ইংরেজিতে সার্চ করে তিনটা ফল মিলিয়ে দেখুন, আর ফলাফলকে নিখুঁত সংখ্যা না ধরে দিক হিসেবে নিন। প্রতিযোগীর ভিডিওর ট্যাগ ইন্সপেক্টর অবশ্য হরফ যাই হোক একইভাবে চলে।

bKash বা Nagad দিয়ে কি BundledSEO-তে vidIQ কেনা যাবে?

এখনো না। বাংলাদেশের চেকআউটে আজ কার্ড আর USDT চলে। bKash আর Nagad আসছে, আর চালু হওয়ার আগে নয়, হওয়ার পরেই আমরা প্রাইসিং পেজে সেটা লিখব।

শেয়ার্ড vidIQ অ্যাকাউন্টে কি নিজের YouTube চ্যানেল যুক্ত করতেই হবে?

না, আর আমাদের পরামর্শ যুক্ত না করাই। কিওয়ার্ড রিসার্চ, প্রতিযোগী ট্র্যাকিং, ট্যাগ ইন্সপেক্টর আর Studio-র স্কোর, সবই চ্যানেল যুক্ত না করেই চলে। শেয়ার্ড অ্যাকাউন্টে চ্যানেল যুক্ত করলে সেটা ওই পুলের অন্য মেম্বারদের চোখে পড়বে। প্রাইভেট অ্যানালিটিক্স YouTube Studio-তেই থাকুক।

vidIQ কি সত্যিকারের থাম্বনেইল A/B টেস্ট করে?

না। এতে থাম্বনেইল প্রিভিউ আর AI জেনারেটর আছে, যেগুলো দিয়ে দেখা যায় থাম্বনেইলটা ফোনের মাপে আর প্রতিযোগীদের পাশে কেমন পড়া যাচ্ছে। আসল A/B টেস্ট, যেখানে দুটো থাম্বনেইল দুই দল দর্শককে দেখিয়ে ফারাক মাপা হয়, সেটা YouTube Studio-র “Test and compare” ফিচার আর বেশির ভাগ চ্যানেল কোনো থার্ড পার্টি টুল ছাড়াই সেটা পায়।

শেয়ার্ড অ্যাকাউন্ট রিসেট হলে কী হয়?

অ্যাকাউন্টে জমানো প্রতিযোগীর লিস্ট আর সেভ করা কিওয়ার্ড মুছে যায়, আর আপনি ড্যাশবোর্ড থেকে আবার লগইন করে খালি একটা অবস্থায় পৌঁছান। ট্র্যাক করা চ্যানেল আর কিওয়ার্ডের নোট নিজের শিটে রাখলে রিসেটে পাঁচ মিনিট যাবে, সপ্তাহ যাবে না।

শুধু Shorts বানানো চ্যানেলের জন্য vidIQ নেওয়া উচিত?

সাধারণত না। Shorts বিলি হয় ফিড থেকে, সার্চ থেকে নয়, তাই কিওয়ার্ড আর ট্যাগের ডেটা ওগুলোর পারফরম্যান্স নিয়ে সামান্যই বলে। এমন চ্যানেল vidIQ-র চেয়ে বেশি কাজ পাবে CapCut আর Canva থেকে।

এক্সটেনশন কি আমার ফোনে চলবে?

এক্সটেনশনটা ডেস্কটপ Chrome-এর জন্য। vidIQ-র একটা মোবাইল অ্যাপ আছে যেটা একই অ্যাকাউন্টে লগইন হয় আর ওয়েব অ্যাপের দিকটা দেখায়, মানে আইডিয়া, প্রতিযোগীর স্ট্যাট আর কিওয়ার্ড, কিন্তু YouTube-এর উপরে বসা ওভারলেটা দেখায় না। রিসার্চটা ল্যাপটপে করার কথা ভেবে রাখুন, আপলোড যেখান থেকে খুশি।

আরও পড়ুন

আলাদা বনাম প্ল্যান · বাংলাদেশ

বাংলাদেশি YouTube চ্যানেলের টুল খরচ: vidIQ, CapCut, Freepik, ElevenLabs আলাদা নাকি Ultimate প্ল্যান

টুল রিভিউ · বাংলাদেশ

ElevenLabs রিভিউ (2026): বাংলা ভয়েসওভারে এটা আসলে কতটা কাজের

টুল রিভিউ · বাংলাদেশ

Mangools রিভিউ (2026): ফ্রিল্যান্সারের বাজেটে KWFinder